স্পোর্টস ডেস্ক:
আবুধাবি টেস্টে জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করেছে বাংলাদেশ। সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের দৃঢ় প্রতিরোধ এবং শেষ দিকে বাংলাদেশের একাধিক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে পঞ্চম দিনের শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়নি।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করে ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান।
পঞ্চম দিনের শুরু থেকেই জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যায় আফগানিস্তান। তবে দিনের শুরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। ফিল্ডারের থ্রো পায়ে লাগায় তিনি ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়েন। পরে আবার ব্যাটিংয়ে ফিরলেও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি এই ব্যাটার।
অন্য প্রান্তে সেদিকুল্লাহ অটলকে দারুণ সঙ্গ দেন ইকরাম আলিখিল। প্রথম সেশনের প্রায় পুরোটা সময় উইকেট ধরে রাখে আফগানিস্তান। তবে মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদতের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। ৩৩ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর ক্রিজে এসে প্রতিরোধ গড়েন ইসমাত আলম। দীর্ঘক্ষণ বাংলাদেশের বোলারদের সামলে রাখলেও শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আউট হন তিনি। ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন ইসমাত।
ইসমাতের পর হাশমতউল্লাহ শহীদিকে ফিরিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পান মিরাজ। চা-বিরতির ঠিক আগে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন আফগান অধিনায়ক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান।
এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে চা-বিরতির আগেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। তাঁর এই ইনিংসই আফগানিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে এবং ড্রয়ের সম্ভাবনা জোরালো করে।
চা-বিরতির পর অটলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবারও আশার আলো দেখান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩২ বল মোকাবিলা করে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই ওপেনার।
অটল আউট হওয়ার পর জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া হয়। এ ছাড়া ম্যাচের শেষ দিকে মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন কায়েস আহমেদ। কিন্তু সেই ক্যাচ নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।
এরপর ড্রয়ের দিকেই এগোতে থাকে ম্যাচ। শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অষ্টম উইকেট হারালেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের দৃঢ়তায় ড্র হয় আবুধাবি টেস্ট। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।

