স্পোর্টস ডেস্ক:
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি হয়ে থাকল অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।
ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর লক্ষ্য ছিল পাঁচ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় তার দলকে পাঁচ দিন অপেক্ষাই করতে হলো না। চতুর্থ দিনের মধ্যেই ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
চতুর্থ দিনে মিরাজের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া
তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসের ব্যবধান কাটিয়ে বাংলাদেশকে ৬৭ রানের লিডে রেখে চতুর্থ দিনের ব্যাটিং শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে ছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন।
দিনের শুরুতেই ক্যারিকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। তবে লিটন দাস সেটি ধরে রাখতে না পারায় জীবন পান ক্যারি।
তবে সেই সুযোগকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩০ রানেই থামে ক্যারির ইনিংস। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারকে একের পর এক আঘাত করতে থাকেন মিরাজ। মাত্র ৫ রানে ওয়েবস্টারকে বোল্ড করার পর ৮ রান করা অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও সাজঘরে ফেরান এই অলরাউন্ডার।
অন্য প্রান্তে অবশ্য দৃঢ়তা দেখাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও উইকেটে টিকে থেকে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ১০০ রানে থামতে হয় গ্রিনকে।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৮৪ রানে। বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
শুরুতেই ধাক্কা, শেষটা মুমিনুলের ব্যাটে
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি মুমিনুল হক।
ওয়েবস্টারের বলে কাট শটে সীমানা পার করে ১৪তম ওভারেই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মুমিনুল। মাত্র এক উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
চার দিনেই বদলে গেল ইতিহাস
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে দলীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে শান্তর দল।
বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামায়। ম্যাচ শেষে মিরাজের কণ্ঠেও ছিল ইতিহাস গড়ার আনন্দ। তিনি এই জয়কে বাংলাদেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের বিশ্বাস ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এতদিন যে জয় ছিল বাংলাদেশের কাছে অধরা, ডারউইনের চার দিনের লড়াই শেষে সেটিই এখন বাস্তব। ২৩ বছরের অপেক্ষার পর পাওয়া এই জয় তাই শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার হিসাব নয়—বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এক নতুন মাইলফলক।

