ন্যাশনাল ডেস্ক:
প্রায় এক মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকটের মধ্যে স্বস্তির খবর এসেছে দেশের গ্যাস খাতে। সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (FSRU) ফের চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ।
শনিবার মধ্যরাত থেকে নতুন এলএনজি কার্গো থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের প্রভাব ধাপে ধাপে কাটিয়ে উঠতে শুরু করবে দেশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে মহেশখালী সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে পৌঁছায় এলএনজিবাহী একটি কার্গো। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, বেলা ২টার দিকে কার্গোটি টার্মিনালে পৌঁছালেও আনলোডিং কার্যক্রম শুরু হতে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লাগবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পর থেকেই এলএনজি সরবরাহ বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার দিকে যেখানে সরবরাহ ছিল ঘণ্টায় ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট, বিকেল ৪টার মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে। একই সময়ে এলএনজিসহ দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুটে।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সামিট ও এক্সিলারেট দুই প্রতিষ্ঠানের টার্মিনালেই একের পর এক কারিগরি সমস্যার কারণে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এর প্রভাব পড়ে পুরো জ্বালানি ব্যবস্থায়। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হয় দেশবাসীকে। পাশাপাশি গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয় অসংখ্য শিল্পকারখানায়।
তবে নতুন করে এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার খবরে শিল্প খাতেও ফিরছে আশার আলো। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকটে উৎপাদন সীমিত বা বন্ধ রাখা অনেক কারখানার মালিক আবার উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও সব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে বিতরণ সংস্থা তিতাস।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ নেওয়াজ পারভেজ বলেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করার পর ঢাকাসহ তিতাসের অন্যান্য বিতরণ এলাকায় গ্যাস পৌঁছাবে। এ প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পাইপলাইনে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনতেও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও জানান, গরমের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সেই বরাদ্দ অব্যাহত রেখে জাতীয় গ্রিডে পাওয়া অতিরিক্ত গ্যাসের একটি অংশ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটতে পারে। তবে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক খাতে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
এক মাসের জ্বালানি অস্থিরতার পর সাগর থেকে আবারও গ্যাস আসতে শুরু করায় এখন সবার নজর কত দ্রুত জাতীয় গ্রিডে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরিয়ে আনা যায় এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত আবার আগের গতিতে ফিরতে পারে।

