ন্যাশনাল ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছে না সরকার। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত হওয়ার পর উপযুক্ত সময়েই এই সফর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হওয়ার পরও কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করা হবে না।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ, আলোচনা এবং বোঝাপড়াকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কবে হবে, তার চেয়ে সফরটি বাংলাদেশের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে—সেটিই সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
‘আগামী সপ্তাহেও হতে পারে’
সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে আগামী সপ্তাহেই সফর হতে পারে। আবার প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতির কারণে তা আরও পরে হতে পারে।
তার ভাষায়, এ সফর নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হঠাৎ করে আয়োজনের বিষয় নয়। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, প্রস্তুতি এবং পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজন হয়। তাই সফরের আগে পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রস্তুতি চলবে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়েও আলোচনা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি নতুন কোনো ইস্যু নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ভারতে অবস্থানরত অন্য অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হবে।
জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্রে সময়সূচির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সফরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফলাফল।
সরকারের লক্ষ্য, আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে অগ্রগতি নিশ্চিত করে যথাযথ প্রস্তুতির পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা।

