বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে থাকছে নানা বিধিনিষেধ

মধুমতি গ্রাফিক্স বিভাগ

ন্যাশনাল ডেস্ক:

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনী প্রচারে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট আকার ও সংখ্যার মধ্যে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পৃথক আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার হবে ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের—৮ দশমিক ২৭ ইঞ্চি বাই ১১ দশমিক ৬৯ ইঞ্চি হতে হবে। ফেস্টুনের সর্বোচ্চ আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি এবং বিলবোর্ডের প্রচার অংশের সর্বোচ্চ আকার ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রচারের সামগ্রী সাদা-কালো হতে হবে। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি সব প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

ওয়ার্ডভেদে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ

এবার সীমিত পরিসরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আচরণবিধিতে প্রতীকের আকারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা কোনোভাবেই ছয় ফুটের বেশি হতে পারবে না। প্রচারে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক

নির্বাচনী প্রচারে মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে ইসি। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে। তবে একই সময়ে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

একই সময়সীমায় ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনের মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যয় দেখাতে হবে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ থাকলেও এর পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি কিংবা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটারের নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটারদের এনআইডি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ইসি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন আচরণবিধিতে এবার এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি নিষিদ্ধ করা হলো।

‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আচরণবিধিতে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়রকে এ তালিকায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রশাসকরাও এ বিধিনিষেধের আওতায় থাকবেন।

প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

পাঁচ ধরনের নির্বাচনে আলাদা বিধান

ইউনিয়ন পরিষদ: প্রতি ওয়ার্ডে একটি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার ব্যয় নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করা যাবে। আগের বিধিতে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও এবার সীমিত পরিসরে তা যুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ: প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। নির্বাচনী ক্যাম্পের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটির বেশি ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে না।

পৌরসভা: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক, ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনের মাধ্যমে প্রচার চালানো যাবে।

জেলা পরিষদ: প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। তবে এ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।

সিটি করপোরেশন: প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। পোস্টার নিষিদ্ধের পাশাপাশি ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের আকার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

লঙ্ঘনে ছয় মাসের কারাদণ্ড

নতুন আচরণবিধিতে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান বহাল রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অধিকতর সুশৃঙ্খল ও আচরণবিধিনির্ভর করতে এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিক থেকেই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493