যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের অভয়নগরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও পাচারের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপহরণের পর ওই ছাত্রীকে প্রথমে খুলনায় এবং পরে ঢাকায় নিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে পালিয়ে গুলিস্তান বাস কাউন্টারে এসে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর পুলিশ তাকে খুলনা থেকে উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের মুজাহিদ মোল্লা ও তাঁর ছেলে রাতুল শেখ (২১)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, মাসে এক লাখ টাকার বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আগে থেকেই ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন রাতুল ও মুজাহিদ। তাঁদের সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটার মধ্যে অভয়নগরে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে মোটরসাইকেলে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, রাতুল ও মুজাহিদ একটি নারী অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে অভয়নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে রাতুলের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পেরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন স্বজনেরা। তাঁরা ছাত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ছাত্রীর বোন বাদী হয়ে রাতুল, তাঁর বাবা ও বোনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তদন্তে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতুল ও তাঁর বাবা মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই ছাত্রী ঢাকার গুলিস্তানে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কাউন্টার থেকে তাঁর বোনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাঁকে খুলনায় ফেরার ব্যবস্থা করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সোনাডাঙ্গা বাস কাউন্টারে পৌঁছালে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
উদ্ধার হওয়া ১৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছে, রাতুল ও মুজাহিদ তাঁকে অপহরণ করে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। পরে অন্যদের মাধ্যমে বাসে করে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় আসিফ নামে এক ব্যক্তি তাঁকে একটি অজ্ঞাত স্থানে দোতলা বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখেন। ওই কক্ষে আরও চারজন মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সে।
ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে পাহারায় থাকা এক নারী কথা বললে তাদের মারধর করতেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে খাবার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে ওই ছাত্রী সেখান থেকে পালিয়ে গুলিস্তান বাস কাউন্টারে পৌঁছান। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন।

