বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরাসরি সম্প্রচারে করবে বিটিভি

ন্যাশনাল ডেস্ক:

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের মধ্যকার এই লড়াইকে ঘিরে সংসদ ভবনে তৈরি হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

এবারের নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভোটগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। ভোটের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভোটদানের দৃশ্য সরাসরি দেখানো হবে। এরপর ভোটগ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনা শুরু হলে আবারও সরাসরি সম্প্রচারে ফিরবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গত বুধবার ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিইসি জানান, ভোটগ্রহণের শুরুতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট শেষে গণনার সময়ও বিটিভির ক্যামেরা থাকবে সংসদ কক্ষে। গণনা শেষে সেখানেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

৩৫ বছর পর কেন আবার ভোট?

১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। দুই প্রার্থী থাকায় সাংবিধানিক ও আইনগত নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

সংখ্যার হিসাবেই এগিয়ে মির্জা ফখরুল

জাতীয় সংসদে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন। সংরক্ষিত নারী আসনসহ সংসদের মোট আসন ৩৫০টি হলেও আদালতের নির্দেশের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। ফলে ওই আসনটি বাদ দিয়ে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির রয়েছে ২৪৭ জন সংসদ সদস্য। দলটির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য রয়েছেন ৯০ জন। সংখ্যার হিসেবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই স্পষ্ট বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

তবে ফলাফল প্রায় অনুমেয় হলেও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াটাই এবার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।

যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ নির্ধারিত আসনে বসেই ভোট দেবেন। ভোট গ্রহণের আগে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করতে হবে।

এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন ভোটার সংসদ সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখছেন। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যাবে।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি প্রার্থী হলেও নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল

গত ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সংসদের অধিবেশন বর্তমানে চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজকের ভোট, ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা না থাকলেও বৃহস্পতিবারের এই ভোট দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকছে।

১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও সংসদ সদস্যদের হাতে যাচ্ছে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত।

দুপুরে ভোটের শুরু, গুরুত্বপূর্ণ ভোটদানের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার এবং বিকেলে ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা সব মিলিয়ে ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের সংসদীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী দিন হিসেবে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493