বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
সারাদেশ

মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং সঙ্গে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলদ্বিমুখী সংকটে ঘাটাইলের গ্রাহকরা

ঘাটাইল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

একদিকে দিনের পর দিন ঘনঘন লোডশেডিং, অন্যদিকে হঠাৎ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া বিদ্যুৎ বিল। এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘাটাইল পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আওতাধীন কয়েক লাখ গ্রাহক।

অনেকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে তেমন পরিবর্তন না এলেও আগস্ট মাসের বিলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। অথচ সেবার মানে কোনো উন্নতি হয়নি।

ধলাপাড়া ইউনিয়নের আষারিয়া চালা এলাকার গ্রাহক হাবিবুর রহমান জানান, প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু একই ধরনের বিদ্যুৎ ব্যবহার সত্ত্বেও আগস্ট মাসে তার বিল এসেছে ৩ হাজার ২০০ টাকা। হঠাৎ এমন বিল দেখে তিনি বিস্মিত।

একই ধরনের অভিযোগ করেন সাগরদিঘী এলাকার বাসিন্দা সজিব মিয়া। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রের অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। ফলে গ্রাহকরা প্রয়োজনের সময় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সাগরদিঘী হাতিমাড়া গ্রামের ফরহাদ আলীর অভিযোগ আরও বিস্ময়কর। তিনি বলেন, যেখানে তার নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল ৪৬৯ টাকার মতো আসে, সেখানে আগস্ট মাসে বিল এসেছে ২ হাজার ৫০২ টাকা। এমন অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করা তার মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।

সোমবার বিকেলে ফরহাদ আলীর মতো অনেক গ্রাহক সাগরদিঘী পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, বছরের পর বছর জুন-জুলাই কিংবা বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। পাশাপাশি লোডশেডিংও নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, “আমার গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ৭০ ইউনিট। কিন্তু এই মাসে কোনো কারণ ছাড়াই ১৩০ ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হয়েছে।”

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের মানোন্নয়ন বা নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত বিল আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আর্থিক চাপে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।

অভিযোগের বিষয়ে ঘাটাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিউদ্দিন মোশাহেদুল্লাহ বলেন, মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কোনো অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সাগরদিঘী অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও দুর্বল সেবার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের আশা, বিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493