বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
সারাদেশ

দীর্ঘ এক যুগ পর মানিকগঞ্জের ইছামতীতে নৌকাবাইচ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর ঢাকঢোল, কাঁশির বাদ্য আর মাঝিদের ‘হেইও হেইও’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ইছামতি নদী। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজনটি পরিণত হয় মিলনমেলায়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কাঞ্চনপুর ও বাল্লা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে ইছামতি নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকার সাতটি ঘাসি ও খেল্লা নৌকা অংশ নেয়।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার সীমানা নির্ধারণ করা হয় কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর এলাকা থেকে বাল্লা ইউনিয়নের খেরুপাড়া ঘাট পর্যন্ত। এক কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ নৌপথে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে ছুটে চললে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

প্রতিযোগিতায় ঘিওর উপজেলার নকিববাড়ি, দিয়াইলের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, সোনারচান-২, গায়ান বাড়ি, গায়ান তরী ও হাজারি তরীসহ বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়। দুপুরের পর থেকেই ইছামতি নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। রঙ-বেরঙের সাজে সজ্জিত নৌকা ও মাঝিদের প্রস্তুতিতে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।

বিকেলে প্রতিযোগিতা শুরু হলে কাঁশির বাদ্যের তালে তালে মাঝিদের নেচে-গেয়ে বৈঠা চালানো এবং ‘হেইও হেইও’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ইছামতির দুই পাড়। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে নৌকাবাইচ। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষ এ আয়োজন উপভোগ করেন।

মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে আসা সায়েম খান বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আগের প্রজন্মের মানুষ এসব ঐতিহ্য দেখলেও পরবর্তী প্রজন্ম এর অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। মেয়েকে নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে আসতে পেরে তাঁর ভালো লাগছে। এমন আয়োজন প্রতিবছর করার দাবি জানান তিনি।

প্রতিযোগিতা শেষে ‘সোনারচান-২’ নৌকাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার মাঝি ও সংশ্লিষ্টদেরও নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। এটি বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ। এ ধরনের আয়োজন প্রতিবছর করা হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493