সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল প্রায় ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন যাত্রীর মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০) ও একই উপজেলার সাফি মিয়া রয়েছেন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকা বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের তিন বছর বয়সী কন্যা জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট নগরের সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)-কে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছায়।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুন নাহার (২৪), মো. মফিজ মিয়া (২৯), ফারুক মিয়া (২৯), মুক্তার (২৯), জাহাঙ্গীর (৩০), আফরুজা (২৯), আফজাল ও বাবুলসহ আরও কয়েকজন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন আহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তাজপুর স্টেশনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার পর থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বিত অভিযানে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চগতিতে চলাচল কিংবা অন্য কোনো ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

