রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
খুলনা বিভাগ

খুলনায় নৌযান শুমারি-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত

খুলনা ব্যুরো:

নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন, মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট জনবলের নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় পরিচালিত হবে এই শুমারি।

নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ শুমারির প্রতিপাদ্য— ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি।’

শুমারিকে সামনে রেখে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম শোভাযাত্রাটির উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

শোভাযাত্রায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আইয়ুব হোসেনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি জেলখানা ঘাট হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

কেন এই শুমারি?

বাংলাদেশের নৌপরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই নৌযানের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে। ফলে নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা কমানো, নৌপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-মালিকদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

এই বাস্তবতায় নৌযান শুমারির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পাশাপাশি যেসব নৌযান নিজস্ব ইঞ্জিনে চলে না, কিন্তু অন্য যন্ত্রচালিত নৌযানের মাধ্যমে টেনে বা ধাক্কা দিয়ে পরিচালিত হয়, সেসব নৌযানও অন্তর্ভুক্ত হবে।

দুর্ঘটনার পর সহায়তায় কাজে আসবে তথ্যভান্ডার

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নৌযান ও নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত জনবলের নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরি হলে দুর্ঘটনার পর প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হবে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে।

নৌযানের নিরাপত্তা বাড়ানো ও দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নাবিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ পরিকল্পনাতেও শুমারির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নৌপরিবহন খাতের নীতি নির্ধারণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি গ্রহণে শুমারি থেকে পাওয়া তথ্যকে জাতীয় পর্যায়ের ডাটাবেজ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রথমবারের এই নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌপরিবহন খাত সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ভিত্তিতে নিরাপদ নৌপথ, দক্ষ জনবল এবং পরিকল্পিত নৌপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581