রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে ● সাতক্ষীরার তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত অন্তত ২০
খুলনা বিভাগ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না: শফিকুর রহমান

খুলনা প্রতিনিধি

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও কঠোর ও শক্তিশালী কর্মসূচির মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। প্রয়োজনে জীবন দিতে হলেও জাতির সঙ্গে বেইমানি করবেন না তাঁরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় সাত দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের অংশ হিসেবে খুলনার বাবরী চত্বরে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের সাত দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত একের পর এক আরও শক্তিশালী কর্মসূচি দেওয়া হবে। এসব দাবি বাস্তবায়নের পরই আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দিতে চান তাঁরা।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই রায় অস্বীকার করা হচ্ছে। ৭০ শতাংশ ভোটার গণভোটের পক্ষে মত দিলেও সংসদে দাঁড়িয়ে তা না মানার অবস্থান নেওয়া হয়েছে। জনগণের ভোটের রায় নিয়ে এমন অবস্থান মেনে নেওয়া হবে না। রায় বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বিলম্বও সহ্য করা হবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি চান। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই তাঁদের লক্ষ্য।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কয়েকটি কার্ড বিতরণ করে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে কৃষক কার্ড বা অন্য কোনো সুবিধার কার্ড পৌঁছেছে কি না, জানতে চাইলে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি। এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার কার্ড দেওয়ার প্রচার চালানো হলেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে, বিদ্যুৎ না পেলেও বিল আসছে।

কৃষি খাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। অথচ নতুন করে সার ডিলার নিয়োগে ২০, ২৫ ও ৩০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হইচই ও সংঘর্ষ হচ্ছে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে না।

জুলাই আন্দোলনসহ গত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। প্রিয় হাদি হত্যারও বিচার চান তাঁরা। সরকারি দলের চাঁদাবাজদের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করা, জনগণের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার বন্ধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব দাবি কোনো দল বা জোটের একক দাবি নয়; বরং দেশের প্রতিটি মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন। জনগণ তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। রাজপথে হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতি ও সমর্থন সেই বার্তাই দিচ্ছে।

প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকামুখী কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সে সময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। ১১ দলের বিজয় নয়, তাঁরা চান বাংলাদেশের জনগণের বিজয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।

তিনি জানান, ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হওয়া এটি ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় লংমার্চ। এর আগে শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর জেলা স্কুল মাঠ পর্যন্ত দুটি লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, জুলুমবাজদের পতন হবে, জনগণের বিজয় হবে। দাবি আদায় করেই তাঁরা ঘরে ফিরবেন।

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির খুলনার আহ্বায়ক ও খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভাটি সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাসার, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কয়রা-পাইকগাছা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581