খুলনা প্রতিনিধি:
সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে বিনামূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রোটারি হেলথ ফেয়ার সিজন-৪’। ২০টি রোটারি ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ স্বাস্থ্য মেলায় পাঁচ শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি স্কুল মাঠে এ স্বাস্থ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। রোটারি ক্লাব অব কসমোপলিটন খুলনার উদ্যোগে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন রোটারি পাবলিক ইমেজের রিপসা টিমের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান লুবনা আফরোজ।
আয়োজনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ রোটারি বর্ষে প্রথমবারের মতো এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হয়। পরপর তিনটি আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবার চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো রোটারি হেলথ ফেয়ার। রোটারি ক্লাব অব কসমোপলিটন খুলনার অন্যতম মানবিক ও স্বাক্ষরধর্মী প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে খুলনার ১৪টি, ঢাকার চারটি, যশোরের একটি এবং বাগেরহাটের একটি ক্লাবসহ মোট ২০টি রোটারি ক্লাব অংশ নেয়।
স্বাস্থ্য মেলায় সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, শিশু ও নারীস্বাস্থ্য, অর্থোপেডিক, চক্ষু ও দন্ত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইসিজিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী মেলায় স্থাপিত মিনি ফার্মেসি থেকে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে শারীরিকভাবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী হুইলচেয়ার ও চশমা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে আয়োজন করা হয় বিশেষ উঠান বৈঠক। এতে টিকাদান, পুষ্টি ও সুষম খাদ্য, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ক্যান্সার প্রতিরোধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, হেলথ কনসালটেশন, হেলথ স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন—এই চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এবারের স্বাস্থ্য মেলার কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ইভেন্ট চেয়ার ফেরদৌসুর রহমান পিয়াস বলেন, যৌথভাবে অংশ নেওয়া রোটারি ক্লাবগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা এবং চিকিৎসক সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত সেবাদানের কারণেই এবারের আয়োজন সফল হয়েছে। এ ধরনের মানবসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজন বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেন রোটারিয়ান সৈয়দ আবু সইদ, আশিষ দে, মোল্লা মারুফ রশিদ, খন্দকার সাজ্জাদুল ইসলাম, জিএম নাসির উল্যাহ, নাদিরা সুলতানা, সামছুল আরিফীন লিয়ন, ওবায়দুর রহমান মিশু, মোজাহিদ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট রোটারিয়ানরা।

