সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কাছে তিনটি বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মাদকের বিস্তার, অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এই তিন ধরনের অপরাধ সিলেটে কোনোভাবেই দেখতে চান না তিনি। এসবের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে নবাগত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, শুধু সিলেটের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন—তা দিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করলে হবে না। বরং আগামী দিনে সিলেটকে কেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে দেখতে চাই, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। এখানে কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও দেখতে চাই না।”
মন্ত্রী জানান, মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এসএমপিকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। নবাগত পুলিশ কমিশনারও এসব সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধ দমনে আইনের আওতায় সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিনিয়োগ ও সীমান্তবন্দর নিয়েও আলোচনা
মতবিনিময় সভায় শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। তারা দুই দেশের সীমান্তবন্দরগুলো আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
বন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় কাঁচামাল পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ টাস্কফোর্স ও ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে তাদের দেওয়া কিছু পরামর্শ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে যা বললেন
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়; বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক হিসেবে এটি আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ রয়েছে, যা বৈশ্বিক বিবেচনায় তুলনামূলকভাবে সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় বেশি। বিশ্বের অনেক অর্থনীতিতেই এমন চিত্র দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিধি আরও বড় করার প্রয়োজন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশটির বাণিজ্যের মোট পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার।
মূল্যস্ফীতি ও চাকরিজীবীদের জীবনমান প্রসঙ্গে
চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণ করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

