রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
খুলনা বিভাগ

বরখাস্থ কর্মকর্তার সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে খুলনার বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে ভিডিও ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে হাসপাতাল প্রশাসন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাশ বর্তমানে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার অর্থে প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার হিসাব গরমিলের অভিযোগ ওঠে প্রকাশ কুমার দাশের বিরুদ্ধে। সে সময় তৎকালীন সিভিল সার্জনের কার্যালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তদন্তে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্তমানে তিনি খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুসন্ধানে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগের কার্যক্রমে যুক্ত অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেদকের কাছে থাকা একাধিক কল রেকর্ডে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীও একই দাবি করেছেন।

হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নজরে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো অনিয়মের বিষয় তার জানা নেই।

এদিকে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু শাহীন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সরকারি হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগ ওষুধ সংরক্ষণ, বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় অভিযোগের বিষয়টি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581