রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
খুলনা বিভাগ

মালয়েশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার প্রতারক

খুলনা প্রতিনিধি:

মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছয়জনকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. পলাশ আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোলপুকুরপাড় এলাকার কর অঞ্চল ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই সূত্র জানায়, খুলনা নগরীর লবণচরা থানার ঠিকরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলাউল কবির খাঁ জনৈক পবিত্র মজুমদারের মাধ্যমে পলাশ আলীর সঙ্গে পরিচিত হন। পলাশ মালয়েশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিলে আলাউল কবির তার ছয়জন নিকটাত্মীয়কে সেখানে পাঠানোর জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেককে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং ভিসাসহ অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য অগ্রিম অর্থ দাবি করেন পলাশ। পরে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তাকে মোট ১৭ লাখ টাকা দেন আলাউল কবির।

এরপর চাকরিপ্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয় এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। এ সময় পলাশ আলী বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট পলাশ আলাউল কবিরের বাড়িতে গিয়ে জানান, তিনি চাকরিপ্রার্থীদের মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারবেন না এবং নেওয়া অর্থও ফেরত দিতে পারবেন না। এ ঘটনায় আলাউল কবির খাঁ বাদী হয়ে পলাশ আলীসহ দুজনের বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় প্রতারণার মামলা করেন।

মামলাটি গত ২৩ আগস্ট দায়ের করা হয়। এর মামলা নম্বর ১৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই সদর দপ্তরের সিদ্ধান্তক্রমে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই খুলনা। পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই (নিরস্ত্র) মো. হাবিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পলাশ আলীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআই খুলনার একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলাশ আলী অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির জবানবন্দি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আলাউল কবির খাঁর কাছ থেকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি হিসাবে ১৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে কাউকে বিদেশে না পাঠিয়ে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, আর্থিক অস্বচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে চাকরি বা আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581