বিনোদন ডেস্ক:
দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা শেষে সাময়িকভাবে দেশে ফিরেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন।
প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে স্বজন, সহকর্মী ও ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেও তার এই সফর খুব বেশি দিনের নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী ১৫ আগস্ট লন্ডনে পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে তাকে।
গত বছরের এপ্রিলে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই বরেণ্য অভিনেতা। একই বছরের আগস্টে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে টিউমারের অবস্থান ও জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচারের সময় পুরো টিউমার অপসারণ সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে নিয়মিত কেমোথেরাপি গ্রহণ করছেন তিনি। জানা গেছে, এ পর্যন্ত তাকে প্রায় ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ইলিয়াস কাঞ্চন। পুরো যাত্রাপথে তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স, যিনি সার্বক্ষণিক তার দেখভাল করছেন।
দেশে ফিরে বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজন ও ভক্তদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। শরীরও ভালো আছে। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া চাই। আর আমার দোয়া সবার জন্য রইল।”
ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক লিটন এরশাদ জানান, এই দেশে ফেরা মূলত অভিনেতার মানসিক স্বস্তি ও পরিবারের ইচ্ছার ফল। তিনি বলেন, কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তাই কয়েক দিনের জন্য তাকে বাংলাদেশে আনার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। তবে আগামী ১৪ আগস্টের আগেই তাকে আবার লন্ডনে ফিরে যেতে হবে। কারণ ১৫ আগস্ট তার গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে।
চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে লিটন এরশাদ বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি না হওয়ায় পরিবার কিছুটা উদ্বিগ্ন। লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তবুও চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং সবাই তার সুস্থতার জন্য আশাবাদী।
দীর্ঘ চিকিৎসার প্রভাব অভিনেতার শারীরিক গঠনেও স্পষ্ট হয়েছে। বিমানবন্দরে তোলা সাম্প্রতিক ছবিতে সাদা চুল-দাড়িতে কিছুটা ক্লান্ত হলেও হাস্যোজ্জ্বল ইলিয়াস কাঞ্চনকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। পাশে ছিলেন তার সফরসঙ্গীরা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে ইলিয়াস কাঞ্চনের নাম উচ্চারিত হয় অসংখ্য কালজয়ী ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। দেশের অন্যতম রেকর্ড গড়া ছবি **‘বেদের মেয়ে জোছনা’**সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। অভিনয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনের এক মর্মান্তিক ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে তোলা জনসচেতনতামূলক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজেও রেখেছেন অনন্য অবদান। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে রাষ্ট্র তাকে একুশে পদকে ভূষিত করেছে।
প্রিয় এই অভিনেতার দেশে ফেরার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সবাই প্রার্থনা করছেন চিকিৎসা সফল হোক, দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও সবার মাঝে প্রাণবন্ত ইলিয়াস কাঞ্চনকে ফিরে পাওয়া যাক।

