রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
জাতীয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

ন্যাশনাল ডেস্ক:

আজ ৫ আগস্ট (বুধবার) দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে টানা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। প্রায় দেড় দশকের শাসনের অবসানের পাশাপাশি সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান ছাড়াও জেলা, উপজেলা এবং বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান, দোয়া-মোনাজাত, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

কোটা আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের পথচলা

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে সারাদেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের কঠোর অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গুলিবর্ষণ, প্রাণহানি, গণগ্রেপ্তার এবং দমন-পীড়নের অভিযোগ জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

ক্রমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। আন্দোলন বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক পরিণতি ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ছিল না; বরং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা রাজনৈতিক অসন্তোষ, ভোটাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এটি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণীতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এক বিশেষ বিবৃতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বৈষম্য, অন্যায় ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ইতিহাসের স্মরণীয় এক অধ্যায়

দুই বছর পরও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজনে সেই আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581