ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়েরের ঘটনায় বিউটি খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার বিউটি খাতুন শৈলকুপা উপজেলার বারইহুদা গ্রামের বাবর আলীর মেয়ে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছিলেন বিউটি খাতুন। মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে আইনের ১৭(১) ধারায় বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মিরাজ জামান রাজ বলেন, চরমুরারিদহ গ্রামের একটি জমি নিয়ে বিউটি খাতুনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তার দাবি, জমিটি তার মায়ের এবং বিউটি খাতুন দীর্ঘদিন ধরে সেটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। জমি উদ্ধারের জন্য আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
মিরাজ জামান রাজ আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে জমি নিয়ে কমিশন চলাকালে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর জমির মালিকানা বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিউটি খাতুন তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেন। পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিউটি খাতুনের বিরুদ্ধে জমি দখল, মাদক ব্যবসা, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিউটি খাতুন যে বাড়িতে বসবাস করেন, সেই জমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তিনি ওই জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিউটি খাতুনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই বিউটি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

