খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা মহানগরীকে নিরাপদ ও শিশুবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
তিনি বলেছেন, নগরকে নিরাপদ করতে হলে শিশু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান কেসিসির সঙ্গে কাজ করছে, তাদের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
রোববার দুপুরে খুলনা নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে শিশুশ্রম, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহমুক্ত ওয়ার্ড ঘোষণা এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যক্রমের সফলতা উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-১ ও ২-এর আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী গতানুগতিক ধারার বাইরে নতুন কিছু করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী খুলনায় বিজ্ঞানভিত্তিক পার্ক ও নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য টেক্সটাইল মিলের অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে পত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে ২১টি মাঠ ও ছোট ফুটসাল নির্মাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে।
তিনি বলেন, শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো গেলে তাদের মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমবে। একই সঙ্গে কিশোরদের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খুলনা মহানগরীর ২, ৪, ৯, ১৪, ১৮, ২০, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে শিশুশ্রমে যুক্ত ১২৯ জন শিশুকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ৪, ৫, ৬, ১৫, ১৭, ১৮, ১৯, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে রয়েছে ৫৪২ শিশু। অন্যদিকে ৪, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮, ২৫, ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা ২৭৩ জন।
অনুষ্ঠানে ৪, ৫, ৬, ১৫, ১৭, ১৮, ১৯, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে বাল্যবিবাহমুক্ত; ২, ৪, ৯, ১৪, ১৮, ২০, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে শিশুশ্রমমুক্ত এবং ৪, ৮, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮, ২৫, ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডকে বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
কেসিসি প্রশাসক এ সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি এর পরিধি আরও বিস্তৃত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের কর্মকর্তা সুরভী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, এশিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার-খুলনার অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম, সিএসএসের পরিচালক (শিক্ষা) ডেভিড থমাস গোমেজ, থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহিনুর রহমান এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পক্ষে এসআই শাহানারা খাতুন শানু। এ সময় কেসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

