রাজনীতি ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করছে। তিনি প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধন থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ সেমিনারের আয়োজন করে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারকে মেজরিটির ভূতে ধরেছে।’ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে অতীতের অনেক সরকার ফ্যাসিবাদী হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে মানুষের রায়কে উপেক্ষা করছে এবং গণরায় বাতিলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গত দুই দশকে সাইবার আইন প্রণয়নের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইসিটি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন, সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স এবং সর্বশেষ সাইবার প্রোটেকশন অ্যাক্ট—সাইবার ইস্যুতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করেছে।
তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স-২০২৫ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের দিক থেকে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এতে দ্রুত কিছু সংশোধনী এনেছে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে জনগণের মতামত চাওয়ার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।
প্রস্তাবিত আইনের ২৬ ও ৩৪ ধারার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো পরিভাষার অস্পষ্টতা বা অপব্যবহারের সুযোগে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটক এবং সাজা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ সময় তিনি অতীতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মামলা ও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রথমে ধর্ম অবমাননার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বর্তমান আইনই বহাল থাকুক, প্রস্তাবিত সব সংশোধনী প্রত্যাহার করুন।’ অন্যথায় জনগণের ভাষা ও রাজপথের স্লোগান থেকে সরকারের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
প্রস্তাবিত সাইবার প্রোটেকশন কাউন্সিল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, কাউন্সিলে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের রাখা হলেও সাংবাদিকদের কোনো প্রতিনিধি বা সংসদের বিরোধী দলের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। জুলাই সনদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে একদলীয় কায়দায় কাউন্সিল গঠন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন গোলাম পরওয়ার।
দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ড. রেজাউল করিম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

