আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পেট্রোলিয়াম লেভির (জ্বালানি কর) প্রতিবাদে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী (জেআই)। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে ফোন করে কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
মুলতানে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাকে ফোন করে লংমার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। এরপর দলের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবাদ থেকে পিছিয়ে যাব না। লংমার্চ থেকেও পিছিয়ে যাব না। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। তাই আমরা সরকারকে একটি সুযোগ দিতে চাই।’
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হবে এবং জামায়াতের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে। বৈঠকের দিন প্রধানমন্ত্রী জনগণকে পেট্রোলিয়াম লেভির বিষয়ে স্বস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিলে বিষয়টির সমাধান হতে পারে। অন্যথায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আগের মতোই লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে জানান দলটির আমির। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ক্যাম্প ও অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম এবং ‘অন্যায্য’ পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলছে। গত ৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ৫১০টি স্থানে বিক্ষোভ এবং ৪২টি স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াত।
পেট্রোলিয়াম লেভি কমানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে তার দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে সরকার জামায়াতের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। এটি পাকিস্তানের ২৫ কোটি মানুষের সমস্যা।’ জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী ফুয়েল রিলিফ স্কিমেরও সমালোচনা করেন হাফিজ নাঈমুর রহমান। এ কর্মসূচির আওতায় দুই ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত আমিরের দাবি, সরকার এক মাসের জন্য ২৫ বিলিয়ন রুপি ত্রাণের ঘোষণা দিলেও প্রতি মাসে জ্বালানির দামের সঙ্গে ১৫০ বিলিয়ন রুপি পেট্রোলিয়াম লেভি আদায় করছে।
এদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী মার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা প্রতিটি দলের সাংবিধানিক অধিকার।

