রাজনীতি ডেস্ক:
জামায়াতে ইসলামীকে ‘হঠকারী’ ও ‘সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা’ রাজনৈতিক দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের পক্ষে নাকি পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেবে এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল এবং তারা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে। আর জামায়াতে ইসলামী মুখে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তারা মুনাফেকি রাজনীতি করে।’
দুই দলের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মানিত আমির সাহেব আসলে একটি রাজনৈতিক সমালোচনা করেছেন। তাঁর এই সমালোচনাকে আমি সাধুবাদ জানাই। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী যদি সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করত, সেই সমালোচনাকেও আমরা সাধুবাদ জানাতাম।’
জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে দলটির নেতারা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করছেন এবং সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে বলছেন। অন্যদিকে তারা লংমার্চের কর্মসূচি পালন করছে। এ ধরনের অবস্থানকে তিনি ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, বাংলাদেশের আশপাশের দেশগুলোতে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের দাম সমন্বয় না করলে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা থাকে। সে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই জ্বালানি সংকটের মধ্যে এক হাজার গাড়ি নিয়ে রংপুরে যাওয়ার অর্থ কী? এর মাধ্যমে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।’
সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে দাবি করে রাশেদ খান বলেন, নতুন কূপ খনন, গ্যাসের সন্ধান এবং নতুন টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আগের তুলনায় বর্তমানে লোডশেডিংও কমেছে। দিন যত যাবে, জ্বালানি সংকট তত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

