খুলনা প্রতিনিধি:
ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে নগরীর সব ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় রোডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিস্ত্রিপাড়া খালপাড় বাড়িওয়ালা কল্যাণ সমিতি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে কেসিসির বিদ্যমান জনবলের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে অতিরিক্ত পাঁচজন করে জনশক্তি যুক্ত করা হয়েছে। তারা ফগারের মাধ্যমে উড়ন্ত মশা নিধন এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থলে স্প্রে করে লার্ভা ধ্বংসে কাজ করছেন।
ওয়ার্ডভিত্তিক এ ধরনের কর্মসূচি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজেদের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুর দুর্ভোগ থেকে নগরবাসীকে মুক্ত রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, কনজারভেন্সি অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কান্তি ঘোষ, সাবেক কাউন্সিলর মাজেদা খাতুন, সমাজসেবক মাহবুব উল্লাহ শামীম, মেশকাত আলী, রবিউল ইসলাম রবি, মোহাম্মদ আলী ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে কেসিসি প্রশাসক নগরীর ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে স্বল্প আয়ের পরিবারের মধ্যে মশারি বিতরণ করেন। খুলনা শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে এসব মশারি বিতরণ করা হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান কেসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, মশারি বিতরণের পাশাপাশি সংস্থাটি নগরীতে বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে।
নিজ নিজ ওয়ার্ডে কেসিসির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমে নজরদারি ও সহযোগিতা করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১৯০টি এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬০টি পরিবারের মধ্যে মশারি বিতরণ করা হয়। এ সময় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বনি, সমাজসেবক জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ, মেহেদী হাসান লিটন, ইউসুফ হারুন মজনু, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, জহিরুল ইসলাম খান জুয়েল, আলম হাওলাদার ও নূরুল ইসলাম লিটনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

