স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি তেল চুরির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি দীর্ঘ ছয় মাস পর তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় জড়িত চালক, হেলপার এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঘটনা ঢাকার চেষ্টা করায় হেড মেকানিককে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন— কেসিসির স্থায়ী শ্রমিক ও ব্যাক-হুইল লোডার চালক এনায়েত হোসেন বাবলু, আউটসোর্সিং কর্মী (সহকারী হেলপার) মোঃ সুরুজ এবং হেড মেকানিক মোহাম্মদ আলী।
প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আউটসোর্সিং কর্মী হওয়ায় সুরুজের নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। অপরদিকে, তদন্তকালে অসত্য তথ্য প্রদান করে অভিযুক্ত চালককে বাঁচানোর চেষ্টা করায় হেড মেকানিক মোহাম্মদ আলীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। তবে তিনি শারীরিকভাবে প্যারালাইজড হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে ৬ মাসের ছুটিতে পাঠিয়েছে কেসিসি প্রশাসন।
জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ কেসিসির খালিশপুর অঞ্চলের এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) পয়েন্টে ব্যাক-হুইল লোডার-৬ এর তেলের ট্যাংকের মুখ খুলে পাইপ দিয়ে জ্বালানি তেল চুরি করছিলেন চালক বাবলু ও হেলপার সুরুজ। কেসিসির কনজারভেন্সি সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসককে অবহিত করেন। পরে কেসিসির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চুরির প্রাথমিক সত্যতা পান এবং চালক বাবলুকে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, চুরির ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একাধিকবার তদন্ত কমিটি সংশোধন করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি তিনজনকে অভিযুক্ত করে কেসিসি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর কেসিসি প্রশাসন শাস্তির অফিস আদেশ জারি করে।
এ বিষয়ে কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ জানান, তদন্তে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা মিলেছে। স্থায়ী শ্রমিক হওয়ায় বাবলুর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হচ্ছে, সুরুজের আউটসোর্সিং চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং অসত্য তথ্য দেওয়ায় মেকানিক মোহাম্মদ আলীকে মানবিক কারণে দীর্ঘ মেয়াদী ছুটিতে পাঠিয়ে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

