বগুড়া প্রতিনিধি:
দীর্ঘ দুই দশকের অবহেলা ও অযত্নের পর নতুন রূপে ফিরতে যাচ্ছে বগুড়ার ঐতিহাসিক শাকপালা পার্ক। শহরতলির শাকপালা মোড়ে অবস্থিত পার্কটির আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জীর্ণতা কাটিয়ে পার্কটি আবারও বগুড়াবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে শাকপালা পার্কের পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বগুড়া শহরের মানুষের অবসর ও বিনোদনের অন্যতম পরিচিত স্থান হিসেবে একসময় শাকপালা পার্কের বেশ সুনাম ছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে পার্কটি নির্মাণ করা হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পার্কটির অবকাঠামো ও পরিবেশ নষ্ট হতে থাকে। একপর্যায়ে দীর্ঘদিনের অবহেলায় পার্কটির সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কটি একসময় মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলেও পরিণত হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের বিনোদনের এই স্থানটি কার্যত তার আগের গুরুত্ব হারায়।
দীর্ঘদিন পর পার্কটি পুনরায় আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পার্কটিকে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে এটি বগুড়া শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠবে।
এদিকে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লন্ডন বৈঠকেও দেশের নির্বাচন প্রসঙ্গের পাশাপাশি শাকপালা পার্কের বিষয়টি আলোচনায় আসে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ উপস্থিত অতিথিরা পার্কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ ২০ বছর পর শাকপালা পার্ক তার হারানো প্রাণ ফিরে পাবে এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের।

