রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
রাজনীতি

এলপিজির দাম বাড়ানো নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইলেন তাজনূভা জাবিন

রাজনীতি ডেস্ক:

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক দফায় ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণের পর এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন। তাঁর প্রশ্ন, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা ২৮ সেপ্টেম্বরের এক বৈঠকে দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানানোর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো।

রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, বাজারে কথিত কৃত্রিম সংকট এবং এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তাজনূভা জাবীন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল।

নতুন দাম নির্ধারণের প্রসঙ্গে তাজনূভা জাবীন লিখেছেন, ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে সিলিন্ডারের দাম আরও বেড়ে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে গ্রাহকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘সংকট না থাকলে পাঁচ দিন পর দাম বাড়ল কেন’

এলপিজি সংকট নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তাজনূভা জাবীন বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই সভায় এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা দেশে বর্তমানে এলপিজির কোনো ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, বৈঠকের মাত্র পাঁচ দিন পর আবার এলপিজির দাম বাড়ানো হলো কেন, যদি দেশে কোনো সংকট না থাকে।

দেশে এলপিজি আমদানির বাজার নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তাজনূভা। তাঁর দাবি, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া ৫২টি কোম্পানির মধ্যে মূলত ৮-৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত এলপিজি আমদানি করে থাকে।

তিনি আরও দাবি করেন, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা অক্টোবর মাসে আমদানির পরিমাণ কম থাকবে এবং সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে—এমন বিষয় আগে থেকেই জানতেন। এ কারণে মজুত করে রেখে পরে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তাজনূভা জাবীন। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি দাবি করেন, কয়েকটি এলপিজি অপারেটর বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে—এমন তথ্য দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তাঁর পোস্টে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

এর আগে এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বাণিজ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তাজনূভা। তবে শুধু নির্দেশনা দিয়েই সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাজনূভা জাবীন বলেন, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের দুর্ভোগ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ে তারা নজর রাখবেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন

এলপিজির দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন তাজনূভা জাবীন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে কেউ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, পাঁচ দিন আগে দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই বলে জানানোর পর আবার কেন সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হলো—সরকারের কাছে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত।

সবশেষে ঢাকার জীবনযাত্রার ব্যয় ও নাগরিক দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তাজনূভা। তাঁর মতে, একদিকে ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী শহরগুলোর তালিকায় উঠে আসছে, অন্যদিকে শহরটির জীবনযাত্রার ব্যয়ও ক্রমেই বাড়ছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581