রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
রাজনীতি

সাইবার অপরাধ দমনের নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা যাবে না: এবি পার্টি

রাজনীতি ডেস্ক:

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ম্যালওয়্যার, সাইবার হয়রানি ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বাস্তব হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর ও শক্তিশালী সাইবার আইন প্রয়োজন। তবে সাইবার অপরাধ দমনের নামে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসাইন মানিক মিয়া অডিটোরিয়ামে এবি পার্টি লইয়ার্স আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন: নিরাপত্তা বনাম হেনস্তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে গৃহিণী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পর্যন্ত অনেককে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে। গাজীপুরে একজন শিক্ষার্থীকে কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও ওই বক্তব্যের সঙ্গে তারা একমত নন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালমান মুক্তাদিরের প্রসঙ্গ টেনে ফুয়াদ বলেন, তাঁর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁর স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সালমানকে সাইজ করার টুল হাতে নেই, তাই এসব সাইবার আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে’—এমন ধারণা যেন মানুষের মধ্যে তৈরি না হয়।

তিনি প্রশ্ন করেন, সাধারণ নাগরিকেরা বিএনপির সমালোচনা করতে পারবেন কি না। সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে মানহানির অভিযোগ হবে কি না কিংবা ‘পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে’ বললেও পুলিশের মানহানি হবে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ফুয়াদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ইমোজি, রাজনৈতিক সমালোচনা কিংবা সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগকে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো কোনো আইন করা যাবে না। আগের সরকার ডিজিটাল আইন নিয়ে যে ভুল করেছিল, বর্তমান সরকারও যেন একই পথে না হাঁটে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সাইবার অধ্যাদেশের ইতিবাচক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন আবার পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা সরকারের দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গুম-খুনের বিরুদ্ধে কথা বলার লোক ছিল না। আমরা চাই আপনারা সফল হন। কিন্তু আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, সেই সক্ষমতা আপনাদের নেই।’

সরকারের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বান

সাইবার আইন প্রণয়নে সরকারের প্রতি পাঁচটি আহ্বান জানান আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা। এগুলো হলো—

১. আইন চূড়ান্ত করার আগে ব্যাপক ও অর্থবহ জনপরামর্শ করতে হবে।
২. ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৩. কনটেন্ট বন্ধ বা অপসারণের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন ও কার্যকর বিচারিক পর্যালোচনা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সরকারের সমালোচনা, ভিন্নমত, সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকে সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
৫. নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন সাইবার সিকিউরিটি আইন চাই, যা অপরাধীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে, কিন্তু নাগরিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে সীমাহীন ক্ষমতা দেবে না। আমরা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা চাই, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিনিময়ে নয়।’

এ সময় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তার, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহদপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফ, ছাত্রপক্ষের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফওজিয়া ফারিহা করবি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক শেখ মাহমুদুল হাসান আসিফ ও সদস্য নুসরাত রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া এবি পার্টি লইয়ার্সের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581