নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ২০২৫ সালে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৭৭ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহীউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার। এ সময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আকবর আলী, ধৃতি সুন্দর মল্লিকসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অমল কান্তি নাগ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, জীবনে শুধু ভালো ফলাফল কিংবা সনদ অর্জনই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের আলোকিত করার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্জিত জ্ঞানকে ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারলেই একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য আসে। তাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, কৃতী শিক্ষার্থীদের এ ধরনের স্বীকৃতি তাদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে এবং ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।
সংবর্ধনা পাওয়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারদিন শাহরিয়ার খানসহ অন্য শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে আনন্দ ও অনুপ্রেরণা পাওয়ার কথা জানায়। তারা ভবিষ্যতে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, জেলা প্রশাসকের দেওয়া জীবন গঠনের পরামর্শ তাদের নতুন করে উৎসাহিত করেছে। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করতে চায় তারা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃতী শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার প্রেরণা জোগাবে।

