খুলনা প্রতিনিধি:
জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সংকট নিরসনে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ এবং খুলনার ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরের পথসভাকে গণজোয়ারে পরিণত করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে লংমার্চ ও পথসভা সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুন্সী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মুহা. আমিনুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অধ্যাপক মহিউল ইসলাম, খুলনা উত্তর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মমিনুর রহমান, ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল আলিম, খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটোসহ স্থানীয় নেতারা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। জনগণের অধিকার ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শুধু আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নয়; বরং এটি মেহনতি ও নিপীড়িত মানুষের দাবি আদায়ের একটি পদক্ষেপ। লংমার্চ চলাকালে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আয়োজিত পথসভাকে সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, গ্রাম ও হাটবাজারে লংমার্চের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন পরিচালনা করতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবার পর্যন্ত সবাই দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে আন্দোলন-সংগ্রাম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন চলছে। নেতাকর্মীরা আন্তরিকতা, সততা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে কাজ করলে ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচি সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

