রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে ● সাতক্ষীরার তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত অন্তত ২০
রাজনীতি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতের

রাজনীতি ডেস্ক:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, ভোট দেওয়ার আগেই ভোট দেওয়া হয়ে গেছে বলে জানানো, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।

গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশন, ঠাকুরগাঁওয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অবশিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সরকারদলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, নির্বাচনের আগে দলটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নয় দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের কাছে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলা হলেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল জামায়াত।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি একজন নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে চাকরিতে সমস্যায় পড়তে পারেন—এমন ইঙ্গিত দিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো এবং ধানের শীষ প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহারের অভিযোগের ছবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করা, নারী ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজনীয় ব্যাজ না থাকার অভিযোগও করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলে কোনো কোনো কর্মকর্তা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী ভোটারকে ব্যালট দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিল ও স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখলে জাল ভোটের সুযোগ তৈরি হতে পারে। নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।

ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাল ভোট প্রতিরোধ এবং কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581