স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে নিরাপদ, আধুনিক ও যুববান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন আনিছুর রহমান আরজু। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডে একটি আধুনিক যুব কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চান তিনি।
সেখানে পাঠাগার, জিমনেসিয়ামসহ যুবসমাজের শিক্ষা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
আনিছুর রহমান আরজু বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ২৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারও ওয়ার্ডবাসীর সমর্থন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
তাঁর পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ যুব কমপ্লেক্স নির্মাণ। আরজুর মতে, বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ খেলাধুলা, জ্ঞানচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। ফলে অনেক তরুণ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। একটি পরিকল্পিত যুব কমপ্লেক্স গড়ে তোলা গেলে তরুণদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। পাঠাগারে বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি জিমনেসিয়ামে শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি হবে।
ওয়ার্ডের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। নির্বাচিত হলে পুরো ওয়ার্ডকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে চান তিনি। এতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করেন এই প্রার্থী। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থলে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাঁর।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে চান আনিছুর রহমান আরজু। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ওয়ার্ডের মসজিদগুলোতে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য পবিত্র কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা। বয়সের কারণে কিংবা জীবনের ব্যস্ততায় যারা শৈশবে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি, তাঁদের জন্য মসজিদভিত্তিক এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
আনিছুর রহমান আরজু বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি যুব কমপ্লেক্স নির্মাণ করা গেলে তরুণদের জন্য জ্ঞানচর্চা, শরীরচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ওয়ার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বয়স্কদের জন্য কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলর হওয়া মানে শুধু রাস্তা, ড্রেন কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা নয়; একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের পাশে থাকা। ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চান তিনি। নাগরিকদের সমস্যা সরাসরি শুনে তা সমাধানে কাজ করা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
আনিছুর রহমান আরজুর প্রত্যাশা, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা তাঁকে নির্বাচিত করলে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, ধর্মীয় শিক্ষা ও যুবসমাজের বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ওয়ার্ড গড়ে তোলার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁর লক্ষ্য।

