স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে আবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আলোচিত এস এম মুশফিকুর রহমান। গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরে এবার নগরীতে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী প্রস্তুত করতেও তৎপরতা চালাচ্ছেন তিনি।
পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যতিক্রমী চলাফেরার কারণে নগরীতে আলাদা পরিচিতি রয়েছে মুশফিকুর রহমানের। খোলা জিপে চলাফেরা করেন তিনি। বেশির ভাগ সময় সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা ও মাথায় পাগড়ি পরেন। লম্বা দাড়ি ও সাদা পোশাকের কারণে অনেকে তাঁকে ‘দরবেশ’ বলেও ডাকেন। মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির বিষয়ে মুশফিকুর রহমান বলেন, “আমি মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। কিছুদিন খুলনার বাইরে ছিলাম। এখন নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় থাকি। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।” শিগগিরই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আবারও মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিকুর রহমান বলেন, তিনি খুলনা নগরীতে গুণগত পরিবর্তন চান। তাঁর ভাষায়, নগর ভবন হবে জনবান্ধব এবং নাগরিকদের সম্মান রক্ষা হবে প্রথম অঙ্গীকার। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের সঙ্গে তুলনা করলে খুলনা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে নগরীকে বাসযোগ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ লক্ষ্য থেকেই মেয়র পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনীতিতে উত্থান-পতন মুশফিকুর রহমান ছোটবেলা থেকেই খুলনা শহরে বেড়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এই ব্যক্তির নাম একাধিক হত্যা মামলার সঙ্গে আলোচনায় আসে। ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম হত্যা মামলায় তাঁকে অভিযুক্ত করা হয় বলে জানা যায়। এরপর তিনি খুলনা ছেড়ে যান। পরবর্তী সময়ে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এস এম এ রব এবং যুবলীগ নেতা টুটুল হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও তাঁর নাম আসে। এসব ঘটনার পর প্রায় ২২ বছর ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুশফিকুর রহমান। দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালে খুলনায় ফেরেন তিনি। ওই বছরের ২৮ জানুয়ারি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। রাজধানীর বনানীতে দলটির কার্যালয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৮ সালের কেসিসি নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।
আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুশফিকুর রহমান। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠতে যাওয়া প্ল্যাটফর্ম কতটা সংগঠিত হয় এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রার্থী প্রস্তুতের কার্যক্রম কতটা এগোয়, তা নিয়ে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

