বিনোদন ডেস্ক:
ঢালিউডের ইতিহাসে সালমান শাহ ও শাবনূর এমন এক জুটি, যাঁদের পর্দার রসায়ন আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। নব্বইয়ের দশকে তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় দেখা মানেই ছিল দর্শকের বাড়তি আগ্রহ। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তার আড়ালে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। সময়ের সঙ্গে সেই গুঞ্জন আরও ডালপালা মেললেও এবার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নিজের অবস্থান জানিয়েছেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।
নীলা চৌধুরীর দাবি, সালমান শাহ ও শাবনূরের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন সালমান। নিজের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরের প্রতি তাঁর ছিল আলাদা স্নেহ। আদর করে তাঁকে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন বলেও জানান নীলা চৌধুরী।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শাবনূরও সালমানকে একজন বড় ভাইয়ের মতোই সম্মান করতেন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর ওপর নির্ভর করতেন। ফলে দুজনের ঘনিষ্ঠতা ছিল মূলত পারিবারিক ও স্নেহের সম্পর্কের জায়গা থেকে। কিন্তু সেই সম্পর্ককেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সে সময় তাঁদের প্রেমের গল্প তৈরি করা হয়েছিল বলে মনে করেন সালমানের মা।
শাবনূরের বক্তব্যও ছিল একই
সালমান শাহর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন অবশ্য বহুবারই নাকচ করেছেন শাবনূর। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সালমানকে নিজের শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ সহশিল্পী ও বড় ভাই হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
শাবনূরের ভাষ্য, ক্যারিয়ারের শুরুতে সালমানের কাছ থেকে তিনি বড় ভাইয়ের মতো সহযোগিতা ও স্নেহ পেয়েছেন। অথচ তাঁদের স্বাভাবিক সম্পর্ককে ঘিরে ছড়ানো নানা গুঞ্জন তাঁকে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে কষ্ট দিয়েছে।
শুধু শুটিংয়ের সেটেই নয়, সালমান শাহর পরিবারের সঙ্গেও শাবনূরের ভালো সম্পর্ক ছিল। সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্কের কথা বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে। ফলে দুই তারকার পর্দার জনপ্রিয়তাই যে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অতিরঞ্জিত আলোচনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছিল এমন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।
১৪ সিনেমায় একসঙ্গে সালমান-শাবনূর
সালমান শাহর ক্যারিয়ার ছিল অল্প সময়ের, কিন্তু সেই সময়েই তিনি ঢালিউডে তৈরি করেছিলেন স্থায়ী এক অবস্থান। মাত্র কয়েক বছরের অভিনয়জীবনে তিনি অভিনয় করেন ২৭টি চলচ্চিত্রে। এর মধ্যে ১৪টি ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবনূর।
‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে সালমান-শাবনূর জুটির যাত্রা শুরু। এরপর ‘সুজন সখী’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে তাঁদের জুটি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাঁদের পর্দার স্বাভাবিক অভিনয়, সংলাপের উপস্থাপন এবং রোমান্টিক রসায়ন নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল।
সালমান শাহর জীবদ্দশায় মুক্তি পাওয়া শেষ চলচ্চিত্র ছিল ‘স্বপ্নের পৃথিবী’। তাঁর মৃত্যুর পর মুক্তি পায় ‘বুকের ভেতর আগুন’।
মৃত্যুর পরও থামেনি সালমানকে ঘিরে আলোচনা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রে তৈরি করে এক গভীর শূন্যতা। তাঁর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা থামেনি। সাম্প্রতিক সময়ে খলনায়ক ডনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ঘিরে সালমান শাহর মৃত্যুর পুরোনো প্রসঙ্গ আবারও আলোচনায় আসে। আর এর সঙ্গে নতুন করে সামনে আসে তাঁর ব্যক্তিজীবন ও শাবনূরের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বহুদিনের সেই গুঞ্জনও।
তবে সময় যতই পেরিয়েছে, সালমান শাহ-শাবনূর জুটির পর্দার জনপ্রিয়তা ততই যেন স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তাঁদের চলচ্চিত্রের রসায়ন নিয়ে দর্শকের ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি।
তিন দশক পর নীলা চৌধুরীর বক্তব্য সেই পুরোনো আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও একটি বিষয় স্পষ্ট সালমান শাহ ও শাবনূরের জুটি শুধু নব্বইয়ের দশকের একটি সফল জুটি নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকস্মৃতিতে তাঁরা আজও এক অমলিন অধ্যায়।

