ন্যাশনাল ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড সরকার গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে রাজপথে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়ায় আয়োজিত মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের অপরিণামদর্শী নীতি ও ব্যবস্থাপনার ফল। দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা কাটিয়ে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের কাজ সহজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন। মানুষের জন্য যে কাজগুলো বাস্তবিক অর্থে উপকার বয়ে আনবে, সরকার সেসব উদ্যোগকেই অগ্রাধিকার দেবে।
কৃষকদের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানান, নারী সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভালো ফলাফল করা ছাত্রীদের জন্য থাকবে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও।
এ ছাড়া দেশের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় সহায়তা দিতে সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের প্রয়োজন ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চায় সরকার।
তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তাই উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের পথে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

