আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে একটি মসজিদে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী কোহাটে পুলিশ সদর দপ্তর কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় হামলাটি চালানো হয়। নামাজের জন্য মুসল্লিরা জড়ো হওয়ার সময় বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশপথে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
উদ্ধার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিলাল ফায়জি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ১০ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লি।
পেশোয়ারের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, হামলাকারীদের মধ্যে একজন নিহত হয়েছে। হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
বিস্ফোরণে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরের দেয়ালও ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের বেশ দূরের এলাকাতেও শোনা গেছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদ রয়টার্সকে বলেন, এটি একটি আত্মঘাতী হামলা ছিল। বিস্ফোরণের পর কয়েকজন বন্দুকধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে অঞ্চলটিতে সক্রিয় পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) ও আইএসআইএল-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর ওপর সন্দেহ করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে সড়কপাশে বোমা হামলায় ছয় সেনা নিহত হন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ জানিয়েছে, একই দিন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিটিপির সদস্য সন্দেহে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। টিটিপি আফগান তালেবান থেকে পৃথক হলেও তাদের সঙ্গে মিত্রতা রয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
হামলার ঘটনায় আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়ে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

