আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কায় আবারও সতর্কবার্তা জারি করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার মক্কা নগরীসহ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে এ সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সতর্কবার্তাগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে জানানো হয়, সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে মক্কা সিটিতে ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কার পাশাপাশি লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট, তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও পৃথক সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার সঙ্গে এ ধরনের সতর্কবার্তা জারি হতে দেখা গেছে।
১০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মক্কায় দ্বিতীয়বার এমন সতর্কবার্তা জারি হলো। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। দেশটির দাবি, ড্রোনটি সৌদি আরবের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি।
এর পরের সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করে, হুতিরা একটি ড্রোন দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলার প্রথম চেষ্টা এটি। তবে হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মক্কার আগের সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর হুতিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে রিয়াদকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের প্রথম হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুতিদের সমুদ্র অবরোধের ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে কয়েকটি এলাকা দখলের পর হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজর রাখা কৌশলগত উপকূলীয় এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মক্কায় বৃহস্পতিবারের সতর্কবার্তা কেন জারি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।

