খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা নগরীর একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে সোহেল রানা ওরফে বাবু (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর কথিত স্ত্রী ফাতেমাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সদর থানার খানজাহান আলী রোডে অবস্থিত ‘কপোতাক্ষ আবাসিক হোটেল’-এর দ্বিতীয় তলার ১০ নম্বর কক্ষ থেকে সোহেল রানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোহেল রানা লবণচরা থানার হরিণটানা অটোস্ট্যান্ড রোড এলাকার লোকমান ফকিরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোহেল রানা ও ফাতেমা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেলের কক্ষটি ভাড়া নেন। সেখানে বিয়ে ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে সোহেল রানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, নিহত সোহেল রানার আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। তাঁর ওই স্ত্রী ঢাকায় থাকেন এবং তাঁদের মধ্যে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ নেই। অন্যদিকে ফাতেমার সঙ্গে সোহেল রানার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ফাতেমা তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
ওসি আরও জানান, রবিবার রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সোহেল রানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ফাতেমা। তাঁকে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

