নড়াইল প্রতিনিধি:
শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনের ঘটনা কার্যকরভাবে তদন্ত, ভুক্তভোগী শিশুদের ট্রমা সম্পর্কে ধারণা এবং শিশু-বান্ধব আদালত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নড়াইলে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘Training for Law Enforcement Officials on SEC Investigation, Traumatization & Victimhood and/or Child Friendly Court Room Procedures’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
Free a Girl Nederland ও ZEEMAN-এর সহযোগিতায় এবং Association for Community Development (ACD)-এর বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেল, নড়াইলের মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ ইন্সপেক্টর (ক্রাইম শাখা) মোহাম্মদ জুয়েল ইসলাম এবং ACD-এর প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এস. এম. আহসান উল্লাহ সরকার। এ সময় ACD-এর এরিয়া ম্যানেজার মো. হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
নড়াইল জেলার বিভিন্ন থানার নারী ও শিশু বিষয়ক হেল্প ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনের ঘটনা শনাক্তকরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া, ভুক্তভোগী শিশুর ট্রমা ও মানসিক অবস্থার প্রতি সংবেদনশীল আচরণ, শিশুর বক্তব্য গ্রহণ, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিশুবান্ধব আদালত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি এসব বিষয়ে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সংবেদনশীল, পেশাদার ও শিশুবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত থেকে বিচারিক কার্যক্রম পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুকে পুনরায় মানসিক আঘাতের শিকার হওয়া থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আয়োজকদের আশা, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা, যৌন শোষণ ও নির্যাতনের ঘটনা মোকাবিলা এবং ভুক্তভোগী শিশুদের জন্য আরও কার্যকর ও শিশুবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

