খুলনা প্রতিনিধি:
জীবন গঠনে কলেজের ভূমিকা অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেছেন, স্কুলের নির্দিষ্ট গণ্ডি পেরিয়ে কলেজজীবন শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। উচ্চশিক্ষা শুধু বই মুখস্থ করে ভালো ফল অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিজেকে মানবিক, সৎ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগও এটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা মহানগরীর আহছানউল্লাহ্ কলেজে একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, শিক্ষার্থীদের দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। তিনি বলেন, তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত ১৭ বছর জাতির সামনে একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে ইতিহাস উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ওই রাজনৈতিক শক্তি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কেডিএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা অর্জন জরুরি। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীরা যাতে সঠিক দিকনির্দেশনা পায় এবং কুসংস্কার ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকে, সে বিষয়ে সম্মিলিতভাবে নজরদারি প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল, খাতা ও কলম দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য আলী হাসান, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও কেএম আশরাফুল আলম নান্নুসহ অন্যরা। পরে কলেজ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত আহছানউল্লাহ্ কলেজটি খুলনা বিভাগের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানান।

