খুলনা প্রতিনিধি
হোয়াটসঅ্যাপসহ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকলের মাধ্যমে খুলনার ব্যবসায়ী জি এম আজিজুর রহমানের কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক আসাদুর জামান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানো দুজন হলেন—শিরোমনি কেডিএ আবাসিক এলাকার স্বপন দাসের বাড়ির ভাড়াটে জয়নুল আবেদীনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে বাবুল ওরফে কাগজী বাবু (৪২) এবং খালিশপুর থানার রায়েরমহল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের এলাকার মুজিবর শরিফের ছেলে মো. ইমরান শরিফ রনি (২৪)।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁদের খুলনা থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে এ মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ।
খুলনা থানার জিআরও এসআই প্রদীপ কুমার বলেন, সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান মেহেদী হাসান ও ইমরান শরিফ রনিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে মামলার অপর আসামি মো. সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্লাটিনাম জুট মিলের পুরোনো যন্ত্রাংশ বিক্রির কথা বলে একটি প্রতারক চক্র ব্যবসায়ী জি এম আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। একপর্যায়ে ডিজিটাল ডিভাইস ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী জি এম আজিজুর রহমান খুলনা সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে।

