খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনা মহানগরীর গোবরচাকা এলাকার ন্যাশনাল গার্লস হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক (ক্রীড়া) মো. সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে লাঞ্ছনার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে বই বিক্রি, ভর্তি-সংক্রান্ত অর্থের হিসাব এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মন্ডলের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শিক্ষক মো. সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক এক সিনিয়র শিক্ষিকা।
বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষিকা হোসনেয়ারা পলি মুঠোফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তিনি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় মো. সোহেল আহমেদ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও হয়রানিতে জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে সংশ্লিষ্ট নথি ও অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মন্ডলের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই ফুটেজে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
শিক্ষক সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে লাঞ্ছনার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইতোমধ্যে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া।
অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা উদ্বেগজনক। তারা অভিযোগগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

