খুলনা প্রতিনিধি
খুলনার রূপসায় ছেলে জয় ঢালীকে হত্যার ৫১ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় এলাকায় ঢালী বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আক্তার ঢালী ওই এলাকার মতলব ঢালীর ছেলে। গত ১৫ আগস্ট রাতে ছেলে জয় ঢালীকে হত্যার ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় আক্তার ঢালীসহ কয়েকজন বাড়ির পাশে কাঠের বেঞ্চে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা সাত থেকে আটজন হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি আক্তার ঢালীকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তাঁর ডান কান ভেদ করে বের হয়ে যায়।
এরপর আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য দুর্বৃত্তরা আরও তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আক্তার ঢালীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।
৫১ দিন আগে ছেলেকেও হত্যা
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৫ আগস্ট রাতে শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালীকে জবাই ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা আক্তার ঢালী বাদী হয়ে মামলা করেন। সেই হত্যাকাণ্ডের ৫১ দিনের মাথায় বাড়ির পাশেই আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হলো।
জয় ঢালী হত্যার পর পুলিশ তাঁকে ‘বি’ কোম্পানির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে সোমবার রূপসা উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জয় ঢালীকে সংগঠনটির সক্রিয় কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে।
রূপসা উত্তর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আলী সুজন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, জয় ঢালী ছাত্রদলের রূপসা উত্তর উপজেলা শাখার সক্রিয় কর্মী ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বাড়ির পাশে শহীদের মোড়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জয় ঢালী সক্রিয় ছিলেন এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তিনি হামলা, মামলা ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলায় তিনি ২৬ নম্বর আসামি হিসেবে ২৫ দিন কারাগারে ছিলেন। একই মামলায় তাঁর বাবা আক্তার ঢালী ৩০ নম্বর এবং বড় ভাই লিটু ঢালী ২৯ নম্বর আসামি ছিলেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জয় ঢালী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিএনপির আদর্শের অনুসারী দাবি করে বিবৃতিতে তাঁর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তবে জয় ঢালী হত্যাকাণ্ড ও সর্বশেষ আক্তার ঢালী হত্যার পেছনে কারা জড়িত, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

