খুলনা প্রতিনিধি
সুপ্ত, গুপ্ত ও ফ্যাসিস্ট শক্তি মিলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে এসব অপশক্তিকে মোকাবিলা করেছেন। ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে তারা ঘরে ফিরেছেন। প্রয়োজনে আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবিলা করা হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনায় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন মন্দিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে এ সভার আয়োজন করে খুলনা মহানগর বিএনপি।
রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। শারদীয় দুর্গাপূজা এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ উৎসবে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ থাকে। তাই এর সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে মন্দিরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর কর্মকাণ্ড দেখে প্রবীণ ব্যক্তিরা একজন নতুন জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব ঘটেছে বলে মন্তব্য করছেন। তবে পলাতক অপশক্তি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভালো থাকা চায় না। এ কারণে তারা নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
এবারের দুর্গাপূজা সর্ববৃহৎ পরিসরে ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হবে উল্লেখ করে বকুল বলেন, খুলনা মহানগরের ৭৫টি পূজামণ্ডপে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। পূজা শেষে মূল্যায়ন সভার মাধ্যমে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠদের পুরস্কৃত করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন। সূচনা বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদীর সঞ্চালনায় সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, মাসুদ পারভেজ বাবু, ফখরুল আলম ও সৈয়দা রেহানা ঈসা। এ ছাড়া মহানগর, থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে শফিকুল আলম তুহিন বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩৩ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নগরীর ৭৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেলটি সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

