খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৭০ জন সাংবাদিকের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে বক্তব্য দেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উপদেষ্টা মো. মাহদী-আল-মুহতাসিম নিবিড়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক প্রবর্তন-এর সম্পাদক মোস্তফা সরোয়ার। প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, দেশকে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা জরুরি। সাংবাদিকতা ও জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই পিআইবি দেশজুড়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষিত করে তুলতে কাজ করছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সফট স্কিল অর্জন করতে হবে। এতে তাঁদের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দক্ষতা সুচিন্তিতভাবে সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহারের জন্য তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মোস্তফা সরোয়ার বলেন, এআই সাংবাদিকদের কাজ সহজ করছে। তবে এআইয়ের সহায়তায় পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া ব্যবহার করলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে সাংবাদিকতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়। খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনা জেলার ৩০ জন সাংবাদিকের জন্য এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. গোলাম রহমান প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আইকিউএসি ট্রেনিং রুমে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ৩৫ জন সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মাল্টিমিডিয়া স্টোরিটেলিং, মোবাইল জার্নালিজম, সাংবাদিকতায় এআই টুলের ব্যবহার এবং ভুয়া সংবাদ শনাক্তকরণের আধুনিক কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা জোরদার করাই ছিল এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।

