ন্যাশনাল ডেস্ক:
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ইসির জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১১ অনুযায়ী নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার ভিত্তিতে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২(৬) অনুসারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই ভোটে প্রথমদিকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এরপর বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় ভোট গণনার কাজ। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, বৈধ ব্যালটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমেদের ঝুলিতে গেছে ৮৮ ভোট। সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট পাওয়ায় নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী মির্জা ফখরুলকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আর সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে যুক্ত হলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম।

