ন্যাশনাল ডেস্ক:
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নিপীড়নের মাধ্যমে দেশে ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের নেতা-কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের বাক্স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাংলাদেশের মানুষ আর কখনো এ ধরনের ভয়াবহ গুম ও নিপীড়নের সংস্কৃতির শিকার হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব: রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর সংঘটিত কথিত প্রাতিষ্ঠানিক দমন-পীড়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সভায় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তাঁর ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনের দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার ঘটনা তুলে ধরে এর মর্মস্পর্শী বিবরণ দেন।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান গোপন বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘরে’ তাঁর বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন বন্দিশালায় সাত মাস আটক থাকার সময় তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দেন।
সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তাঁর স্বামী ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা দেশবাসীর কাছে ‘গুম’ শব্দটিকে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব ঘটনার কঠোর বিচারের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আন্তর্জাতিক পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের ঘটনাগুলোকে অমানবিক ও জঘন্য বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তাঁর নিজ দেশ রোমানিয়ায় সাবেক শাসক নিকোলায়ে চউশেস্কুর দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের শাসনামলের কিছু বিষয়ে মিল রয়েছে। বাংলাদেশ সফর শেষে আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে এ দেশের স্বৈরাচারী শাসনামলে সংঘটিত গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, মাধবী মারমাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

