রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
জাতীয়

পিতা-মাতার অবহেলা ঠেকাতে বিদ্যমান ভরণপোষণ আইন কঠোর করার দাবি রুমিন ফারহানার

ন্যাশনাল ডেস্ক:

পিতা-মাতার অবহেলা ও নির্যাতন রোধে বিদ্যমান ভরণপোষণ আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে পিতা-মাতার সম্পত্তি জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার পর তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনা বন্ধে চার দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা।

পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈলের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার ইবাদত করো এবং তোমার পিতা-মাতার খেদমত করো। যদি তাদের একজন কিংবা উভয়ই তোমার বেঁচে থাকা অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না।’

সংসদে দেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক সন্তান বাবা-মায়ের সম্পত্তি দখল করে বড় বড় দালানকোঠার মালিক হচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেই বাবা-মায়ের ঠাঁই হচ্ছে নিজেদের মালিকানাধীন ভবনের কোনো কোণে কিংবা বৃদ্ধাশ্রমে।

তিনি বলেন, সন্তানদের হাতে বাবা-মায়ের এমন অবহেলা ও নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং তা মানুষের আত্মাকে ভেঙে দেয়।

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন কার্যকর করার পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়ে যাতে তাঁদের অসহায় অবস্থায় পড়তে না হয়, সে জন্য চার দফা প্রস্তাব দেন এই সংসদ সদস্য।

প্রথমত, সন্তান পিতা-মাতার ভরণপোষণে অবহেলা বা তাঁদের নির্যাতন করলে দানপত্র বাতিলের একতরফা অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, সন্তান অবহেলা বা নির্যাতন করলে দাতা এককভাবে রেজিস্ট্রি করা দলিল বাতিলের জন্য পারিবারিক আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, সন্তান যাতে পিতা-মাতার সম্পত্তি তৃতীয় পক্ষের কাছে বন্ধক রেখে তাঁদের দায়ভার বহনে বাধ্য করতে না পারে কিংবা তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দিতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর বিধান করার কথা বলেন তিনি।

তৃতীয়ত, দাতার জীবদ্দশায় তাঁর লিখিত সম্মতি ছাড়া ওই সম্পত্তি কোনো ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন রুমিন ফারহানা।

চতুর্থত, এ ধরনের জরুরি বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর প্রস্তাব, জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত বিচার পদ্ধতি বা ‘সামারি ট্রায়াল’ চালুর কথাও বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা আশা প্রকাশ করেন, পিতা-মাতার অধিকার সুরক্ষা এবং তাঁদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া প্রস্তাবগুলো আইনমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581