বাণিজ্য ডেস্ক
আর তিন বছর পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটে জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক নাগরিক সেবার চাহিদাও বাড়ছে। সিলেটসহ এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক সুবিধা ও সেবার সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে। ফলে সিলেটের মতো একটি শহরে নাগরিক সেবা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানের সেবাদানকারী সংস্থায় পরিণত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ও প্রত্যাশিত মানের সেবা পান, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন।
সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনোভাবেই এ সময়সীমা ব্যাহত করা যাবে না। কারণ, এ প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের প্রাণও দিতে হয়। তাঁদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
জাপানের সঙ্গে চুক্তিতে বাড়বে বিনিয়োগ
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে জাপান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশটির আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

