বিনোদন ডেস্ক:
চিত্রনায়িকা শাবনূরকে ঘিরে প্রবাসী রিজভী আহমেদের একের পর এক বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। প্রেম, বিয়ে ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর করা দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শাবনূর। একই সঙ্গে সালমান শাহকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে আনা পুরোনো অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি শাবনূরকে নিজের সাবেক প্রেমিকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দুই বক্তব্যের পার্থক্যই শাবনূরের নজরে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, রিজভী আরও দাবি করেছেন—২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে সেই বিয়ের বিচ্ছেদ ঘটে।
তবে এমন দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন শাবনূর। বরং রিজভীর দাবির বাস্তবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। অথচ রিজভী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন। ফলে কথিত বিয়েটি কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল—সেই প্রশ্ন সামনে এনেছেন শাবনূর।
শাবনূর বলেন, রিজভীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না; এমনকি তাকে তিনি কখনো দেখেছেন বলেও মনে করতে পারেন না। রিজভীর বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, বাস্তবে কোনো বিয়ে না হলেও হয়তো তার সঙ্গে রিজভীর ‘স্বপ্নের বাসর’ হয়েছিল!
শাবনূরের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভক্ত-অনুরাগীদের অনেকেই সমর্থনে মন্তব্য করেছেন। কেউ তাকে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ বলেছেন—সত্য একসময় প্রকাশ পায়।
প্রেম-বিয়ের দাবির বাইরে পুরোনো অভিযোগের জবাব
রিজভীর বক্তব্য নিয়ে শাবনূরের আপত্তি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়। সালমান শাহকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।
শাবনূরের দাবি, রিজভী তাকে সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য দায়ী করেছেন এবং এমনকি সালমান শাহর মৃত্যুর জন্যও তাকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন। এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
অভিনেত্রীর বক্তব্য, সালমান শাহর মৃত্যুর আগে রিজভী আহমেদ নামে কাউকে তিনি চিনতেন না। বরং সালমান শাহর মৃত্যুর পরই প্রথম তার নাম জানতে পারেন। পরে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রিজভী রাজসাক্ষী হওয়ার পর তার নাম সামনে আসে বলে দাবি করেন শাবনূর।
এ কারণেই রিজভী কীভাবে তাকে সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেলের সঙ্গে যুক্ত করছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।
কূটনামির অভিযোগও মানতে নারাজ শাবনূর
সালমান শাহ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত বিষয়ে ‘কূটনামি’ করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন শাবনূর। তার দাবি, কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর মতো মানসিকতা তার কখনোই ছিল না।
শাবনূরের ভাষায়, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এ ধরনের আচরণ তার স্বভাবের অংশ নয়। পরিবার থেকেও তিনি এমন শিক্ষা পাননি বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে কাজের ব্যস্ততার কারণে এমন কিছু করার সময়ও তার ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
পুরোনো জবানবন্দি নিয়ে নতুন প্রশ্ন
রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে তার অতীতের বক্তব্যের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাবনূর। অভিনেত্রীর পোস্টে দাবি করা হয়েছে, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ একসময় সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন।
শাবনূরের দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া একটি জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ওই জবানবন্দিতে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অর্থের বিনিময়ে সম্পৃক্ত থাকার কথাও রিজভী বলেছিলেন এমন দাবি করেছেন শাবনূর।
তবে শাবনূর প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতে যেখানে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, সেখানে সাম্প্রতিক দুটি সাক্ষাৎকারে রিজভী আবার সেই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন কেন?
বক্তব্যের বৈপরীত্য নিয়েই শাবনূরের প্রশ্ন
সব মিলিয়ে রিজভী আহমেদের বক্তব্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিকেই সামনে এনেছেন শাবনূর। একদিকে তাকে সাবেক প্রেমিকা দাবি করা, অন্যদিকে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা বলা; আবার সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়ে পুরোনো ও সাম্প্রতিক বক্তব্যের ভিন্নতা সবকিছু মিলিয়ে রিজভীর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।
তবে রিজভী আহমেদের এসব দাবির সত্যতা বা আদালতের পুরোনো জবানবন্দির বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই না করে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। শাবনূর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে যে বক্তব্য ও দাবি করেছেন, প্রতিবেদনে সেগুলো তার বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

